
“তারা আমাদের ভাই-বোন, তাদের সঙ্গে মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ব”—বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “হাসিনা আপার রেখে যাওয়া কর্মী-সমর্থকদের পাশে আছি। তারা আমাদের ভাই-বোন। তাদের সঙ্গে মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ব।”
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বক্তব্য দেন। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন: “আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা যারা কোনো অপরাধ করেনি, তাদের সঙ্গে আমরা শত্রুতা পোষণ করি না। হাসিনা আপার রেখে যাওয়া কর্মী-সমর্থকদের পাশে আছি। তারা আমাদের ভাই-বোন। তাদের সঙ্গে মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ব। যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার হবে, কিন্তু সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে আমরা হাত মেলাতে চাই।”
প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা বক্তব্যটি প্রকাশের পর বিএনপির অভ্যন্তরে ও বাইরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের অনেক নেতা-কর্মী ও জুলাইযোদ্ধারা এই বক্তব্যকে “আওয়ামী লীগের প্রতি নরম অবস্থান” হিসেবে দেখছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আলী বলেন: “যাদের নেতৃত্বে গণহত্যা, গুম, নির্যাতন হয়েছে, তাদের কর্মীদের ‘ভাই-বোন’ বলা হচ্ছে—এটা জুলাই শহীদদের প্রতি অপমান।”
একজন জুলাইযোদ্ধা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন: “যারা আমাদের বুকে গুলি চালিয়েছে, তাদের কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। এটা কোন যুক্তিতে মেনে নেওয়া যায়?”
অন্যদিকে বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা এই বক্তব্যকে “রাজনৈতিক পরিপক্কতা” হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, নির্বাচনের আগে সমাজে বিভেদ কমিয়ে ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন: “এখন যখন আমরা দুর্বল, তখন বিএনপি আমাদের কর্মীদের ‘ভাই-বোন’ বলছে। ক্ষমতায় গেলে কী করবে, সেটাই দেখার বিষয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বলেন: “মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যকে দুইভাবে দেখা যায়। একদিকে এটি সমঝোতা ও ঐক্যের বার্তা। অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও কর্মীদের কাছে এটি আপসের মতো মনে হতে পারে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের বক্তব্য দলের ভোটব্যাংকের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।”
বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। অনেকে এটিকে “রাজনৈতিক কৌশল” বলে মনে করছেন, আবার অনেকে বলছেন এটি “জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে বেঈমানি”।
মন্তব্য করুন