
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এবার ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল থেকে ইরানের দিক থেকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে বলে ইসরায়েল জানিয়েছে। হামলা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি শহরে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে: “নাগরিকদের হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশ মেনে চলতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। যেকোনো ধরনের হুমকি নস্যাৎ করতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী কাজ করছে।”
ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী:
হামলার পরপরই ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন: “এবারের জবাব হবে অত্যন্ত বিধ্বংসী। শত্রুরা যে খেলা শুরু করেছে, তার খেসারত তারা চরমভাবে দিতে যাচ্ছে।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সময় তিনি তেহরানে ছিলেন না। তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড (IRGC) জানিয়েছে, তারা এখন পূর্ণ যুদ্ধপ্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা মূলত ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, ড্রোন নির্মাণ স্থাপনা এবং বিপ্লবী গার্ডের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল:
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭ জন নিহত ও ৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিপ্লবী গার্ডের ৪ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন।
ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, তারা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অন্তত ৩-৪টি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ইরানের পাল্টা হামলা যদি ব্যাপক হয়, তাহলে অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
খবর চিত্র প্রতিবেদক
মন্তব্য করুন