
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৫ বছরের শিশু তাবাসসুমকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা, প্রধান অভিযুক্ত আবু তাহের গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ৫ বছরের শিশু তাবাসসুমকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যার অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যায় ব্যবহৃত লুঙ্গি ও নিহত শিশুর স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এসব তথ্য জানায়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শিশু তাবাসসুমের বস্তাবন্দি লাশ কালীগঞ্জ উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের একদিন পর লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয় যে, প্রতিবেশী যুবক আবু তাহেরের সঙ্গে শিশুটির পরিবারের সামান্য পরিচয় ছিল। তার অবস্থান শনাক্ত করে কুষ্টিয়া থেকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আবু তাহের স্বীকার করেছে—সে শিশু তাবাসসুমকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল। ব্যর্থ হওয়ায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়। তার স্বীকারোক্তি অনুসারে উপজেলার রায়গ্রাম এলাকার চিত্রা নদীর তীর থেকে শিশুর ব্যবহৃত একটি স্যান্ডেল ও নদীর ভিতর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাতে অজ্ঞাত আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের পিতা নজরুল ইসলাম। পরে আবু তাহেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে নিহত শিশুর গ্রামের বাড়ি মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা বাজারে। কর্মসূচিতে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহফুজ আফজাল বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আবু তাহের স্বীকার করেছে—সে শিশু তাবাসসুমকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়েই তাকে হত্যা করেছে। আমরা শিশুটির পিতার দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়েছি। হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
খবর চিত্র প্রতিবেদক
মন্তব্য করুন