
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে অবস্থিত একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় কমপক্ষে ৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। খবর দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (IRNA) এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
IRNA-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে মিসাইল হামলায় মিনাব শহরের একটি সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ভবনে সরাসরি আঘাত হানে। হামলার সময় বিদ্যালয়ে ক্লাস চলছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ৫ জন ছাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং আরও ১২-১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে অধিকাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পরপরই ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিদ্যালয় ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি বেসামরিক বাড়িতেও ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশব্যাপী হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মিনাব বিদ্যালয়ে ৫ জন শিশু, তেহরান ও ইস্পাহানে ৯ জন সামরিক সদস্য এবং বাকিরা বেসামরিক নাগরিক। আহতের সংখ্যা ১১০ জনেরও বেশি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই হামলাকে “যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ” বলে অভিহিত করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এবং যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন এখন পর্যন্ত মিনাব বিদ্যালয়ে হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ আগের বিবৃতিতে বলেছিলেন, হামলা শুধুমাত্র “সামরিক ও নিউক্লিয়ার স্থাপনা” লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন শহরে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং যেকোনো সময় আরও বড় পাল্টা হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খবর চিত্র প্রতিবেদক
মন্তব্য করুন