
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত চারদিনে পুরো মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মঞ্চে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব নেতারা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। এখন পুরো বিশ্বের মানুষের একটাই প্রশ্ন—এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু দেশটিতে গভীর জাতীয় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর পরপরই ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রতিশোধ নেওয়া এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা ঘোষণা করেছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ড আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে কি না, সে আলোচনাও সামনে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে সোমবার বলেন: “ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ শেষ হতে কিছুটা সময় লাগলেও তা বছরের পর বছর চলবে না। আমি বলেছিলাম এটি দ্রুত ও চূড়ান্ত হতে পারে। এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু এটি কোনো অন্তহীন যুদ্ধ নয়।”
তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শুরু হয়েছে। শেষদিকে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের জনগণই রেজিম পরিবর্তন করে নেবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং সামরিক শক্তির আধিপত্য তাদের দ্রুত ও নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম করেছে। কিন্তু ইরানের জটিল সামাজিক-রাজনৈতিক কাঠামো, দীর্ঘদিনের মতাদর্শিক ভিত্তি এবং আঞ্চলিক প্রভাববলয় শুধু শীর্ষ নেতৃত্ব সরিয়ে দিয়ে বদলানো সম্ভব নয়।
বিশ্ব নেতারা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে?
খবর চিত্র প্রতিবেদক
মন্তব্য করুন