
দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৮ জন আহত; রাতভর হামলা-ভাঙচুর, দুপুরে ধনিজকরা বাজারে সংঘর্ষ
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। জামায়াতের তিনটি নির্বাচনি অফিস, বিএনপির একটি অফিস ও একটি মাদরাসার বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে বিএনপির দুই কর্মীর বাড়ি। এসব ঘটনার জেরে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ধনিজকরা বাজারে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া এসব ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, রাত ১১টার দিকে শুভপুর ইউনিয়নের ধনিজকরা গ্রামে বিএনপি সমর্থিত বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর চালায়। এর কিছুক্ষণ পর ধনিজকরা বাজার এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর হয়।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই বাতিসা ইউনিয়নের নানকরা এলাকায় জামায়াত নেতা মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার প্রতিষ্ঠিত আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) মহিলা মাদরাসার একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। একই রাতে শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া তেলিপুকুর পাড়ে জামায়াত সমর্থক নাছির উদ্দিনের মুদিদোকান, পাশের জামায়াত কার্যালয়, ধনিজকরায় জামায়াত কার্যালয়সহ কয়েকটি দোকান ও কালিকাপুর ইউনিয়নের সমেশপুরে জামায়াতের নির্বাচনি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
দুই পক্ষের অভিযোগ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসাইন বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্ত চৌদ্দগ্রামকে অশান্ত করার পাঁয়তারা করছে বিএনপি। রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে আমাদের তিনটি নির্বাচনি অফিস আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে তারা। শুধু দলীয় কার্যালয়ই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাস ও জামায়াত অফিসের পাশে মুদিদোকানেও আগুন দিয়েছে। এই ঘটনায় আমাদের অন্তত ৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, ধনিজকরায় বিএনপি সমর্থক বাচ্চু মিয়ার প্রতিবেশির অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের কেউ জড়িত নয়। এটা তাদের পারিবারিক ঘটনা। বিএনপি অফিস ভাঙচুরের সঙ্গে আমাদের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম রাজু বলেন, “রোববার রাতে জামায়াত নেতাকর্মীরা ধনিজকরা গ্রামে বিএনপির সমর্থক বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে আমাদের দলের অফিসও ভাঙচুর করেন এবং বিএনপিকে ফাঁসানোর তার তাদের নির্বাচনি কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে।”
প্রশাসনের অবস্থান চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, “দুই দলের মধ্যে ছোটখাটো কিছু ঝামেলা হয়েছে, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাঠে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা সরব রয়েছেন। এসব ঘটনায় জামায়াত-বিএনপি কোনো পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মাদরাসার পরিবহনে আগুন দেওয়ার প্রতিবাদে ও দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার দুপুরে নানকরা এলাকায় মানববন্ধন করেছেন আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) মহিলা মাদরাসা পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুল হুদা। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
মন্তব্য করুন