Reporter
২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির জয়ের পথ যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে ততটাই জটিল

জামায়াতের দ্রুত উত্থান, তরুণ ভোটারদের প্রভাব, আওয়ামী সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের দোদুল্যমান অবস্থান—১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় বিশ্লেষক সুধা রামচন্দ্রনের পর্যবেক্ষণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতির মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। শুরুতে যেখানে বিএনপির নিরঙ্কুশ এগিয়ে থাকার ধারণা তৈরি হয়েছিল, সেখানে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই সমীকরণ জটিল হয়ে উঠছে। জনমত জরিপে এগিয়ে থাকলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পথ মোটেও মসৃণ নয় বিএনপির জন্য। কারণ, রাজনীতির মাঠে দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে জামায়াতে ইসলামী। একসময় মিত্র হলেও এখন দুই দলই আলাদা জোটে ক্ষমতার লড়াইয়ে নেমেছে।

ভারতীয় সাংবাদিক ও দ্য ডিপ্লোম্যাটের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সম্পাদক সুধা রামচন্দ্রন ‘বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাবনা বাড়াতে পারে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা’ শিরোনামে একটি নিবন্ধে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।

নিবন্ধে তিনি লিখেছেন:

বাংলাদেশিরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন; কারণ ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই প্রথম নির্বাচন। যদিও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, তবুও দলটির সমর্থকেরা বিজয়ী নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোটের আর এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে জনমত জরিপগুলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বিজয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে। কিছু জরিপে দলটির ভূমিধস বিজয়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—একটি জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপিকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, যেখানে জামায়াতে ইসলামী অনেক পিছিয়ে থেকে ১৯ শতাংশে রয়েছে। তবে অন্য কিছু জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বেশ হাড্ডাহাড্ডি হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেখানে বিএনপি মাত্র কয়েক শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছে।

তিনি লিখেছেন, আসন্ন নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে মধ্য-ডানপন্থি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং কট্টর ডানপন্থি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থি জোটের মধ্যে। একসময় বিএনপি ও জামায়াত একে-অপরের রাজনৈতিক মিত্র ছিল এবং একসঙ্গে নির্বাচন করত। এমনকি ২০০১-২০০৬ মেয়াদের বিএনপি সরকারে জামায়াতের নেতারা মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

মূলত শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি অভিন্ন বৈরিতা দীর্ঘদিন বিএনপি ও জামায়াতকে একত্রে রেখেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়ে রাজনীতির মাঠ থেকে সরে যাওয়ার পর সেই বন্ধন আর নেই। গত এক বছরে সংবিধান সংস্কার ও নির্বাচন কবে হবে— এ ধরনের নানা ইস্যুতে দুই দলের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। আর নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে এবং ক্ষমতার লড়াই যত তীব্র হচ্ছে, বিএনপি ও জামায়াতের বিচ্ছেদ ততই অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

সুধা রামচন্দ্রনের মতে, তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের বাড়তে থাকা প্রভাব, সংগঠিত তৃণমূল কাঠামো এবং আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের দোদুল্যমান অবস্থান—সব মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বিএনপির জন্য যতটা সম্ভাবনার, ততটাই অনিশ্চয়তার।

তিনি লিখেছেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলটির কিছু নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগের সমর্থনভিত্তিও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ছিল। শেখ হাসিনার পতনের পর তা কিছুটা কমলেও এখনও এই ভোটব্যাংক বেশ বড়। এই ভোটাররা কীভাবে ভোট দেবেন, তা-ই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করতে পারে— বিশেষ করে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হলে।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা (৮-১০%) অতীতে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন। এবার বিএনপি ও জামায়াত— দুই দলই এই ভোটব্যাংকের দিকে তাকিয়ে আছে। হিন্দু ভোটাররা বলছেন, দুই দল থেকেই তারা ‘ভয়ভীতি ও চাপের’ মুখে পড়ছেন।

বিএনপির ক্ষেত্রে তারেক রহমান অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মধ্যপন্থি রাজনীতির কথা বললেও তার উদ্যোগেই অতীতে বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। জামায়াত এখন দাবি করছে, তারা সংখ্যালঘু বা নারী-বিরোধী নয়। কিন্তু তাদের প্রার্থী তালিকাই ভিন্ন কথা বলছে। তারা মাত্র একজন হিন্দু প্রার্থী দিয়েছে এবং কোনও নারী প্রার্থী দেয়নি।

নিবন্ধে সুধা রামচন্দ্রন লিখেছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা এটাও বিবেচনায় নেবেন যে ভবিষ্যতের জন্য বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কে তুলনামূলক ভালো বিকল্প। বিএনপির ‘নতুন ভিশন’ তাদের কিছুটা এগিয়ে রাখছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে কয়েক দশকের বৈরিতা কি তারা ভুলতে পারবে?

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সীতাকুণ্ডে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের হামলা, দুই ঘণ্টা গোলাগুলি

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরে ঈদুল আজহা: ২০ গ্রামে হাজারো মানুষের আনন্দ

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক জ্বালানি চুক্তি: এলএনজি-এলপিজি আমদানিতে নতুন দিগন্ত

পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসীসহ ৯ নিহত

এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি থেকে ২২ নেতা একযোগে পদত্যাগ

ভারত-আমিরাতে চুক্তি: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নীরবতার অভিযোগ মিথ্যা: ডা. তাসনিম জারা

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে ৮ হাজার ৬২ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ: মোট ঋণের ৭৮% একাই নিয়েছে দলটি

বিদেশি ভিসায় ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাচাই এখন মুহূর্তে: বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

ইউনূস সরকারের টিকার ঘাটতিতে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা

১০

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বিএনপি-জামায়াতের মতামত নিয়েই হয়েছে: ফরিদা আখতার

১১

মুসলিমদের ওপর অত্যাচার করলে ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করব: তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়

১২

মোটরসাইকেলে নতুন অগ্রিম আয়কর: ১১০ সিসি ফ্রি, বড় সিসিতে ১০ হাজার টাকা

১৩

লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত

১৪

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ: ব্যাংকে না গিয়েই ঘরে বসে পাবেন ই-লোন

১৫

আওয়ামী লীগ তার পজিশনে ফিরবে, কিন্তু শেখ হাসিনার পথে গেলে আবার ডুববে: কাদের সিদ্দিকী

১৬

ঢাবির সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)

১৭

মিরপুর থানার মামলায় সাবেক এমপি সুমনের জামিন বহাল

১৮

ছাত্রলীগের তৎপরতা রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেবে: গোলাম মাওলা রনি

১৯

জামালপুরে ৭৬ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি: জামায়াতের সাবেক নেতা হারুনুর রশীদ গ্রেপ্তার

২০