
বিএনপি কর্মীদের কাছে “ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন”
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজ জন্মভূমি, মাটি ও মায়ের কাছে এই ফেরাকে “ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন” বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।
তারা বলছেন, দূর প্রবাসে থেকেও তরুণ মন ও উদ্যম নিয়ে দলকে সংগঠিত করেছেন তারেক রহমান। এবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সব সামলাবেন তিনি।
২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার সময় তারেক রহমান শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। রিমান্ডে অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। দেশের মাটিতে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার শেষ দেখা হয় সেই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর। বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তির পর খালেদা জিয়া ছুটে যান বাংলাদেশ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছেলেকে দেখতে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন প্রায় তার বয়সের সমান। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় মাত্র ৬ বছর বয়সে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে কারাবন্দী হন। পিতা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন ঘরের কিশোর ছিলেন তিনি। খালেদা জিয়া এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নামলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তারেক বিভিন্ন চিন্তাবিদের দর্শনে ঋদ্ধ হন।
আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে যোগ ১৯৮৮ সালে। ১৯৯১-এর নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নেন। ২০০১-এর নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেন। ২০০২ থেকে ধীরে ধীরে দলের নেতৃত্বে। ২০০৫ থেকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে গ্রামে-গঞ্জে ছুটে বেড়ান।
২০০৭-এর নির্যাতনের পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে যান। ২০০৯-এ দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, প্রবাসে থেকেও নিপীড়নের মধ্যে দলকে সংগঠিত করেছেন তিনি। ২০২৪-এর অভ্যুত্থানে নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কর্মীরা বলছেন, এই প্রত্যাবর্তন জাতীয়তাবাদী শক্তির নতুন অধ্যায়ের সূচনা। পলিমাটির সৌরভ গায়ে মেখে কঠিন পরীক্ষায় নামছেন তারেক রহমান।
মন্তব্য করুন