
বগুড়া-৬ (সদর) ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম (বাদশা) ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান (সোহেল) পান ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট। ফলে রেজাউল করিম ৭৬ হাজার ৭৭২ ভোটের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
একই দিনে অনুষ্ঠিত শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনেও জয় পান বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল)। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান পান ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। এ আসনে তাঁর জয়ের ব্যবধান দাঁড়ায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৬ ভোট।
ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও, নির্বাচন ঘিরে অভিযোগ তুলেছেন জামায়াত প্রার্থীরা। বগুড়া-৬ আসনে আবিদুর রহমান অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপির পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন এবং নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনে দুপুরের পর সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের প্রভাবিত করা, বুথ দখল, এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং হামলার অভিযোগ তোলেন। একটি হামলার ঘটনায় দলের এক নেতা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-৬ আসনে ১৫১টি কেন্দ্রে প্রায় ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। শেরপুর-৩ আসনে ১২৯টি কেন্দ্রে (একটি পোস্টালসহ) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভোটের হার ছিল ৫২.১৯ শতাংশ।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে বিজয়ী হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসনটি ছেড়ে দিলে সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে পূর্বের নির্বাচন স্থগিত হয়ে পরে এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন