
রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর ঐতিহাসিক দোতলা লাল রঙের ভবনটি (‘লাল বাড়ি’) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় খালি পড়ে থাকা এই বাসভবনটি বর্তমানে জোরেশোরে মেরামত, সংস্কার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ চলছে। পূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাসভবনটিকে বিরোধীদলীয় নেতার বসবাসের উপযোগী করে তুলতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে।
ব্রিটিশ আমলে প্রায় আড়াই একর জায়গার ওপর নির্মিত এই দোতলা লাল রঙের ভবনটি ‘লাল বাড়ি’ নামে পরিচিত। স্বাধীনতার পর এটি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্ধারিত বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
২০০১ সালে খালেদা জিয়া বাসভবনটি ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে গত ২৫ বছরে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা এখানে বসবাস করেননি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় বাড়িটি এখন বেশ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, “বাড়িটির প্রায় ৯০ ভাগ কাজ সম্পূর্ণ করা আছে। এখন রাস্তার অংশ আর রঙের ফিনিশিং কাজ চলছে। আসবাবপত্র দেওয়া হবে যিনি থাকবেন তার চাহিদার ওপর। গত ২৫ বছর এ বাসভবনে কেউ থাকেননি। এবার যদি কেউ থাকেন তার সঙ্গে কথা বলে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করার চেষ্টা চলবে।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সংসদ সচিবালয় বা সরকার নিয়ম অনুসারেই বিরোধীদলীয় নেতার জন্য ২৯ মিন্টো রোডের বাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে। ওই বাড়িতে তিনি উঠবেন কিনা বা উঠলে কবে নাগাদ উঠবেন তা এখনো ঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে দলের কোনো ফোরামে এখন পর্যন্ত আলোচনা হয়নি। সংসদ তো এখনো বসেনি। অধিবেশন শুরু হোক, তখন আমরা দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে জানাব।”
একজন শীর্ষ জামায়াত নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “আমির বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি শপথের পর এবং আগে বলেছেন জামায়াত ইতিবাচক রাজনীতি করবে। যেহেতু বাড়িটি বিরোধীদলীয় নেতার জন্য বরাদ্দ তাই সেখানে তিনি উঠতে পারেন এমনটি ধারণা করা যায়। তবে এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে বা আমিরের পক্ষ থেকে ওই বাড়িতে ওঠার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”
বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসভবনটি বর্তমানে বেশ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় চারপাশের পরিবেশও নিভৃত হয়ে পড়েছে। মন্ত্রিপাড়াখ্যাত মিন্টো রোডে অবস্থিত এই বাসভবনের আশপাশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইজিপি, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ডিএমপি কমিশনার, একজন বিচারপতি, একজন নির্বাচন কমিশনার, পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাসভবন রয়েছে।
একটি নিভৃত বাসভবন হিসাবে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা এই বাড়িটিতে আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পদচারণা ফিরে আসবে কি না, তা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।
খবর চিত্র প্রতিবেদক
মন্তব্য করুন