
রাজবাড়ী-২ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েও হাসিমুখে ফলাফল মেনে নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী সাইয়েদ জামিল। তিনি অভিযোগ করেছেন, গুজব ছড়িয়ে জামায়াতের একটি অংশ তাঁকে হারিয়েছে।
এক ফেসবুক পোস্টে জামিল লেখেন: “নির্বাচনে হেরেও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললাম। কারণ আমি বিশ্বাস করি, জয়-পরাজয়ের ফয়সালা আসে আল্লাহর কাছ থেকে। আমি ভোট পেয়েছি ৬৭,২৯৯টি।”
তিনি আরও বলেন: “আমার আসনে জোট ফাংশন করেনি। পাংশা উপজেলা জামায়াতের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত আমার বিপক্ষে থেকেছে। ভোটের আগের দিন তারা পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়েছে যে আমি নির্বাচন থেকে সরে গেছি। এত কিছুর পরও প্রায় ৭০ হাজার ভোট পেয়েছি—এটাই আমার জন্য অনেক।”
জামায়াতের একাংশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন: “বালিয়াকান্দি এবং কালুখালী জামায়াত নেতাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তাদের আন্তরিক সহযোগিতা আমি চিরকাল স্মরণ রাখব। অভিনন্দন জানাচ্ছি বিএনপি জোটের প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদকে।”
অভিনন্দনের পাশাপাশি তিনি বলেন: “পাংশা উপজেলায় ভোট সুষ্ঠু হয়নি। পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আমার পিতা ভোট দিতে গিয়ে দেখেন তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। বাহাদুরপুরের প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি হয়েছে। দুপুর ১২টার পর থেকে পুরো আসনে ভোটের পরিবেশ খারাপ হয়ে যায়। যার বহু এভিডেন্স আমার কাছে এসেছে। হয়তো হারুন ভাইও তার কিছু চিত্র দেখেছেন।”
তিনি আরও লেখেন: “সব কিছু ভুলে তাকে পুনরায় অভিনন্দিত করছি। তিনি বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। আশা করি তিনি আগামী ৫ বছর জনগণের আস্থার মূল্য দেবেন। আল্লাহ তার মঙ্গল করুন। পরাজয়ে ডরে না বীর। আমি পরাজিত হয়েছি। আমি লজ্জিত নই। ৬৭,২৯৯ জন ভোটার আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, যাদের আস্থার প্রতিদান আমি প্রতিদিনই দিতে চাই। পাশাপাশি আমার আসনের সব জনগণের পাশে আমি সর্বাত্মকভাবে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।”
পাংশাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন: “রাজনীতিতে আমি নতুন। পার্টি লাইনের রাজনীতিতে আমার বয়স মাত্র ১০ মাস। এরই মধ্যে নির্বাচন করেছি। অভিজ্ঞতার ঘটতি হারে হারে টের পেয়েছি। আমার নির্বাচনকালীন টিমও ছিল নতুন এবং আনকোরা। ফলে প্রচারণাও হয়েছে অপ্রতুল। এর মধ্যে পাংশা উপজেলা জামায়াতের মীরজাফরির কারণে পাংশাতে ভোটই চাইতে পারিনি। পাংশাতে ভোট না-চেয়েও ২০ হাজারের অধিক ভোট পেয়েছি। পাংশাবাসীর কাছেও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি আমার নির্বাচনকালীন টিমের সদস্যদের প্রতি। তারা সর্বাত্মকভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছে শেষ দিন পর্যন্ত।”
রাজবাড়ীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন: “আমি রাজবাড়ী জেলায় একটি ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এমপি না হয়েও এই লক্ষ্যে আমি কাজ করব ইনশাআল্লাহ। রাজবাড়ী-২ আসনের সম্মানিত ভোটাররা, আমার জন্য দোয়া করবেন। রাজনীতির ভেতর দিয়ে আপনাদের সঙ্গে আমার যে যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে তা গতিশীল থাকবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আপনাদের সবার মঙ্গল করুন এই শুভকামনা।”
খবর চিত্র প্রতিবেদক
মন্তব্য করুন