
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষকে ‘কোনোভাবেই কাম্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এই সংঘাত এড়ানো যেত কি না, নির্ধারিত সময়ের আগে একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করে রাখল, সেই দলের লোকজন কেন লাঠিসোঁটা জড়ো করল এবং সবার অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রার্থী কেন সংঘাতের পথ বেছে নিলেন—এসব বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, শেরপুরে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে প্রতিটি দলের জন্য আসন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সব আসন দখল করে রেখেছিলেন এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের নির্ধারিত আসনে বসতে দিচ্ছিলেন না। প্রশাসন বারবার আহ্বান জানানোর পরও তারা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা ও সংঘাত হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর সবার প্রত্যাশা ছিল উৎসবমুখর নির্বাচন, সংঘাতময় নয়।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও দেখা গেছে, যেখানে জামায়াতের প্রার্থীকে পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং বিএনপির নেতা-কর্মীরা হাত জোড় করে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি ওই রাস্তা দিয়ে না যান। তারপরও তিনি কেন সেই দিক দিয়েই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? তাঁকে বারবার বলতে শোনা যাচ্ছিল, ‘জান যায় যাক।’
মাহদী আমিন জানান, গতকাল বুধবার শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াতের এক নেতা নিহত হয়েছেন। ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এবং ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক ছিলেন। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতা-কর্মী রয়েছেন এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি নির্বাচন যেন বিতর্কমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ থাকে এবং কেউ যেন সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি না করতে পারে সেই আহ্বান জানান। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে এবং সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শেরপুরে যে সহিংসতা ও সংঘাত আমরা দেখেছি, সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের সবার প্রত্যাশা ছিল উৎসবমুখর নির্বাচন, সংঘাতময় নয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।
— মাহদী আমিন মুখপাত্র, বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি (গুলশানে সংবাদ সম্মেলন, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬)
মন্তব্য করুন