
দীর্ঘ ১৪ বছর পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ পুনরায় শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) থেকে ঢাকা-করাচি-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এদিন রাত ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটটি যাত্রা করবে এবং প্রায় ৩ ঘণ্টায় করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এই রুটে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে—বৃহস্পতিবার ও শনিবার। উদ্বোধনী ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও বিশেষ অতিথিরা থাকবেন। ফিরতি ফ্লাইট করাচি থেকে মধ্যরাত ১২টায় ছেড়ে ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
এই রুট ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে। পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (পিসিএএ) গত কয়েক মাস ধরে আলোচনার পর এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা ও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। অনুমোদন প্রাথমিকভাবে ৩০ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর, যা পরে পুনর্বিচার করা হবে। ফ্লাইটটি ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করে চলাচল করবে, যার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, “এই সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে যাত্রীদের সময় ও খরচ অনেক কমবে। বর্তমানে দুবাই বা দোহা হয়ে ট্রানজিট করে যাতায়াত করতে হয়, যা ৮-১০ ঘণ্টা সময় নেয়। সরাসরি ফ্লাইটে মাত্র ৩ ঘণ্টায় পৌঁছানো যাবে।” এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক যোগাযোগ বাড়বে।
প্রসঙ্গত, টিকিট বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম কয়েকটি ফ্লাইটের টিকিট শেষ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাহিদা বাড়লে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্পর্কের প্রসার (যেমন করাচি-চট্টগ্রাম কার্গো শিপিং পুনরায় চালু) এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির প্রেক্ষাপটে এই ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
(সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, কালের কণ্ঠ, প্রথম আলো, ইত্তেফাক, বাংলাদেশ প্রতিদিন, আরব নিউজ, দ্য ন্যাশনাল, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, জিও নিউজ, বিএসএসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, ৭-২৮ জানুয়ারি ২০২৬)
মন্তব্য করুন