
অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো বা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ এখন খুবই সীমিত—মাত্র প্রায় ১৫ দিন। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনকাঠামো বা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় বেতন কমিশন (পে কমিশন) প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং তা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিচ্ছে না।
ফাওজুল কবির খান স্পষ্ট করে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না। নির্বাচিত সরকার চাইলে এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারবে অথবা বাতিলও করতে পারবে—যেকোনোটাই। প্রস্তাবিত পে-স্কেল নির্বাচিত সরকারের জন্য কোনো চাপ সৃষ্টি করবে না।”
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে নতুন বেতন কমিশন গঠনের দাবি ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এই দাবি বিবেচনায় নিয়ে পে কমিশন গঠন করে। কমিশনের প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত প্রস্তাবিত হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে সরকারের বার্ষিক খরচ ১ লাখ কোটি টাকার বেশি বাড়তে পারে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল নিয়ে প্রত্যাশা পূরণের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো। অনেকে মনে করছেন, এই বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে যাতে তারা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
(সূত্র: প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, কালের কণ্ঠ, জাগোনিউজ২৪, ইত্তেফাক, যায়যায়দিন, জুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬)
মন্তব্য করুন