
একই বছরে দুটি ঈদুল আজহা, একটি ঈদুল ফিতর ও দুটি পূর্ণ হজ মৌসুম—জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদের হিসাবে অভূতপূর্ব ঘটনা
ইসলামি বর্ষপঞ্জি (হিজরি) ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব মিলিয়ে ভবিষ্যতে ঘটতে যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। একই ইংরেজি (গ্রেগরিয়ান) বছরে একাধিক ঈদ উদযাপন এবং দুইবার হজ পালনের সুযোগ পাবেন বিশ্বের মুসলমানরা। এমন বিরল সময়চক্র তৈরি হচ্ছে হিজরি ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পার্থক্যের কারণে—যা ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সৌদি আরবের খ্যাতনামা জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানিয়েছেন, ২০৩৯ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরে তিনটি ঈদ এবং দুইবার হজ পালনের বিরল অভিজ্ঞতা পেতে যাচ্ছেন বিশ্বের মুসলমানরা। সে বছর পালিত হবে দুটি ঈদুল আজহা, একটি ঈদুল ফিতর এবং দুটি পৃথক হজ।
কীভাবে সম্ভব হচ্ছে এই বিরল ঘটনা? হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল। এতে একটি বছরে থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন। অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সৌরভিত্তিক—যার দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই ব্যবধানের কারণে ইসলামি মাসগুলো প্রতি বছর ইংরেজি বছরের তুলনায় প্রায় ১০-১১ দিন এগিয়ে আসে। ফলে নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন বিরল চক্র তৈরি হয়।
ড. আল-মিসনাদের হিসাব অনুযায়ী:
এছাড়া এই দুই ঈদুল আজহার মাঝে দুটি আলাদা আরাফার দিনও পালিত হবে—যা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যান্য বিরল চক্র একই ধরনের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে ২০৩০ সালে—যখন একই ইংরেজি বছরে দুইবার রমজান মাস পালিত হবে (জানুয়ারি ও ডিসেম্বরে)। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে—প্রায় ৩৩ বছর আগে।
ধর্মীয় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য এই বিরল সময়চক্র শুধু ধর্মীয় আনন্দ বাড়াবে না, জ্যোতির্বিজ্ঞানের দিক থেকেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষের এই মিলন মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে—যেখানে রোজা, হজ, কোরবানি ও ঈদের আনন্দ একসঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন