
পদ্মা সেতুতে টোল থেকে তিন হাজার কোটি টাকা আয় ছাড়িয়েছে
ঢাকা, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ — বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতু থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে আয় তিন হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) জানিয়েছে, সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে গত ৪৩ মাসে (২০২২ সালের ২৫ জুন থেকে ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত) টোল বাবদ মোট আয় ৩,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০,৭৭০ কোটি টাকা। এই সেতু নির্মাণে কোনো বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়নি; পুরোটাই দেশীয় অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকে সেতু দিয়ে লাখ লাখ যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে।
বিবিএ’র তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সাড়ে তিন বছরে (ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত) টোল আয় ছিল প্রায় ২,৯৩৬ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আয়ের এই উল্লম্ফন ঘটেছে। গড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন সেতু ব্যবহার করছে, যার মধ্যে ট্রাক, বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল অন্যতম।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার জানান, ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেম (ইটিসি) চালু হওয়ার পর টোল আদায় আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হয়েছে। এতে যানজট কমেছে এবং আয়ের পরিমাণও বেড়েছে।
পদ্মা সেতু শুধু যোগাযোগের ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও বড় ভূমিকা রাখছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অংশের সংযোগ সহজতর হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও শিল্প খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই সেতু থেকে আয় আরও বাড়বে এবং নির্মাণ ব্যয় উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে টোলের হার নিয়ে কিছু আলোচনা থাকলেও সেতুর সুবিধা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় এটিকে সফল প্রকল্প হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আয়ের একটি অংশ ঋণ পরিশোধ, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
এই মাইলফলক অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে অনেকে বলছেন, পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু নয়—এটি বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা ও উন্নয়নের প্রতীক।
মন্তব্য করুন