
ইসি ঘেরাওয়ের দ্বিতীয় দিনে কড়া হুঁশিয়ারি; পোস্টাল ব্যালটে পক্ষপাতের অভিযোগ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, আসিফ মাহমুদের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ অবশ্যই এর তদন্ত করবে।
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্যে নাছির উদ্দীন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টে আপনি (আসিফ মাহমুদ) ভূমিকা রেখেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে উপদেষ্টা হয়ে আপনি হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন। এটা বাংলাদেশের মানুষ জানে। এই দুর্নীতির বিচার বাংলার মাটিতেই হবে।”
নাছির উদ্দীন তিনটি মূল ইস্যু তুলে ধরে ইসিকে প্রশ্ন করেন:
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচনপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে। ২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
তিনি আরও বলেন, “আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, সেই নতুন বাংলাদেশে আমরা কখনোই জামায়াত-শিবির-রাজাকারকে ক্ষমতায় আনার জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে যে চেষ্টা তা আমরা মেনে নেব না। জামায়াতের নামে কেন এই পোস্টাল ব্যালট পেপার, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।”
নাছির উদ্দীন দুইটি রাজনৈতিক দলকে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “দুইটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। জুলাই-আগস্টে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রসংস্থা, জুলাই-আগস্টে সম্মুখসারির যোদ্ধা, যিনি ছাত্র প্রতিনিধি হয়ে উপদেষ্টা হয়ে তিনি হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন। বাংলাদেশে আসিফ মাহমুদের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিষয়টি ওপেন সিক্রেট।”
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলছেন, তিনটি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ইসি ঘেরাও কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছাত্রদলের নেতারা জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের চেষ্টা করছেন।
মন্তব্য করুন