
রাশিয়ার দখল করা ইউক্রেনীয় অঞ্চল থেকে চুরি করা গম আমদানির অভিযোগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ ঘটনায় ইসরাইলকে ‘স্বাভাবিক দেশ নয়’ বলেও সমালোচনা করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বলেন, “যেকোনো স্বাভাবিক দেশে চুরি করা পণ্য কেনা আইনের দৃষ্টিতে দণ্ডনীয় অপরাধ।” তিনি দাবি করেন, লুট করা গম বহনকারী একটি জাহাজ ইতোমধ্যে ইসরাইলে পৌঁছেছে এবং তা খালাসের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন কার্যক্রমকে বৈধ ব্যবসা বলা যায় না এবং ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানত না—এ দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়।
ইইউ জানিয়েছে, রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগে ইসরাইলি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র আনোয়ার এল আনৌনি বলেন, “রাশিয়ার অবৈধ যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ জোগাতে সহায়ক এবং ইইউ নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার সব ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিন্দা জানাই। প্রয়োজনে তৃতীয় দেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।”
ইসরাইলের হাইফা উপসাগরে একটি রুশ ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজ ভেড়ার ঘটনায়ও ব্যাখ্যা চেয়েছে ইইউ। ইসরাইলি দৈনিক হারেজ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, দখল করা ইউক্রেনীয় অঞ্চল থেকে গম জটিল সামুদ্রিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে পাচার করা হচ্ছে। ছোট জাহাজ বা রেলপথে গম সমুদ্রে এনে পরে বড় জাহাজে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে জাহাজগুলোর ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখা হয় উৎস গোপন করতে।
উপগ্রহ চিত্র, শিপিং ডেটা এবং রুশ নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ২০২৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এমন কার্যক্রম চলছে। এ বছরেই অন্তত চারটি চালান ইসরাইলে পৌঁছেছে এবং রুশ নথিতে ৩০টির বেশি চালানের উল্লেখ রয়েছে।
ইউক্রেনের হিসাবে, ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে অন্তত ১ কোটি ৫০ লাখ টন গম দখল করা হয়েছে, যার বিক্রির অর্থ মস্কোর যুদ্ধ তহবিলে যোগ হচ্ছে।
ইইউ’র সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। অনেক পর্যবেক্ষক এটিকে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ হিসেবে দেখছেন, কারণ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি ইইউ।
খবরচিত্র.কম
মন্তব্য করুন