
লালমনিরহাটে বিষ বৃক্ষ তামাকে সয়লাব,স্বাস্থ্য ঝু্ঁকির পাশাপাশি জমির উর্বরতা হুমকীতে
মিজানুর রহমানঃ
লালমনিরহাট জেলার ফসলি জমিতে বিষবৃক্ষ তামাক চাষাবাদে সয়লাব,প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ঝু্ঁকির পাশাপাশি জমির উর্বরতা হুমকীর মধ্যে পড়ছে।
লালমনিরহাট জেলার ফসলি জমির যে দিকে দু -চোখ যায় চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে চাষ হচ্ছে বিষ বৃক্ষ তামাকের।জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ বছর জেলায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে,যা গত বছরের তুলনায় ৯ হাজার ৯ শত হেক্টর বেশী,বাস্তব চিত্র বলছে সরকারি পরিসংখ্যানের দ্বীগুন হবার সম্ভবনা রয়েছে।
জেলার যে সকল উচু্ঁ জমিতে ভুট্টা,শাক,সব্জী, আলু,পেঁয়াজ,রসুন,কাঁচামরিচ চাষাবাদ হতো সেই জমিতে তামাক চাষের প্রবনতা অতিমাত্রায় লক্ষ্য করা গিয়েছে,পাশাপাশি এবার নিচু ধানের জমিতে তামাক চাষাবাদ করতে দেখা গিয়েছে।কৃষি বিভাগের তদারকি না থাকায় প্রনোদনার সার তামাক চাষে ব্যাবহার করার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে,ফলে সরকার যে সকল ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রনোদনা দিয়েছে তার লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হয়নি বেশ কিছু উপজেলায়।
তামাক জাত পন্য উৎপাদন কারী কোম্পানি গুলোর ক্রয় কেন্দ্র জেলায় ব্যাঙ্গের ছাতার মত গড়ে উঠেছে,বাৎসরিক লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে তামাক উৎপাদনে প্রতিযোগীতায় নেমেছে কোম্পানিগুলো,কৃষকদের মাঝে,সার বীজ, কীটনাশক সহ নগদ অর্থ প্রনোদনা দিয়ে তামাক উৎপাদনে উৎসাহিত করছে কোম্পানি গুলো,বিনিয়োগ কম মুনাফা বেশী হওয়ায় দিন দিন জেলার চাষীরা ঝুঁকে পড়ছে তামাক চাষে।
জেলার ৪৫ টি ইউনিয়নের কম বেশী সব ইউনিয়নে তামাক চাষাবাদ হয়ে থাকে,তবে তিস্তা,ধরলা,সানিয়াজান,রত্নাই,সাকোয়া,গিদারী,
সতী,স্বর্নামতী,ছিনাকাটা নদীর তীরবর্তী জমিতে তামাক চাষের প্রবনতার হার বেশী।নদী তীরবর্তী জমিতে তামাক চাষাবাদে ব্যাবহৃত কীটনাশক নদীর জীব বৈচিত্র কে হুমকীতে ফেলেছে।ফলে এসব নদীতে দেশী প্রজাতির মাছের অকাল ঘাটতি দেখা দিয়েছে।ফসলি জমিতে তামাক উৎপাদন বৃদ্ধি করতে অতিমাত্রার রাসায়নিক সার ব্যাবহার করা হয়ে থাকে,এতে করে জমির উর্বরতা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, জেলার যে সকল জমিতে তামাক চাষ করা হচ্ছে,এই জমি গুলো ৩/৪ বছর আগে ধান, ভুট্টা,আলু,পেয়াঁজ চাষ করা হতো।প্রতিবছর ফসলি জমিতে তামাক চাষাবাদ করায় খাদ্য উৎপাদনে হুমকীর পাশাপাশি জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে।জনসংখ্যার চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যের যোগান দিতে প্রতিবছর আমাদের খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে।
ক্ষতিকারক তামাক জাত দ্রব্য ব্যাবহার করে প্রতিবছর দেশে ১লাখ ৬১ হাজার মানুষ মৃত্যু বরন করে,তামাক ব্যাবহার করায় স্বাস্থ্যহানীর কারনে বছরে ৩০ হাজা ৯শত কোটি টাকা ক্ষতিসাধন হয়।জেলায় তামাক ক্রয় কেন্দ্রে কর্মরত এবং তামাক জাত পন্য বিড়ি,গুল, সিগারেট উৎপাদনে নিয়োজিত বেশীর ভাগ মানুষ শরীরের নানা জটিল রোগে ভু্ঁগছেন, এদের আবার বৃহত একটি অংশ বয়সে তরুন।জেলার বেশ কয়েকটি বিড়ি শিল্পে সস্তা শ্রমের কারনে শিশু কিশোরদের কাজ করানোর অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তামাক পাতা জমি থেকে বাড়ী নিয়ে আাসা,পাতা শুকাতে কাঠি দিয়ে গাঁথা,শুকানোর জন্য রোদে দেওয়ার পক্রিয়ায়,বয়স্ক মানুষের পাশা পাশি শিশুদের দিয়ে তামাক গুছানোর ঝুঁকিপুর্ন কাজ করতে দেখা গিয়েছে।দীর্ঘক্ষন বিষপাতা তামাক নাড়া চাড়া করায় পাতার ক্ষতিকারক নিকোটিন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সংস্পর্শে আসে,যা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।তামাক পক্রিয়াজাত কাজে শ্রমিকের অপ্রতুল্যতা এবং বেশী মুনাফার কারনে কৃষক পরিবারগুলো বাড়ীর শিশুদের ব্যাবহার করায়,
স্কুল গুলোতে উপস্থিতি হার এ সময় খুব কম থাকার প্রবনতা লক্ষ্য করা গিয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল হাকিম জানান,লালমনিরহাট জেলায় তামাক চাষাবাদ বেশী হবার কারনে তামাক প্রক্রিয়া জাত করন,তামাক জাত পন্য বিড়ি,গুল,খনি উৎপাদনে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি,তামাক জাতীয় পন্যের ব্যাবহার বেশী হবার কারনে জেলার বৃহত একটি অংশের মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।
এর ফলে শ্বাসকষ্ট,চর্ম,যৌন,যক্ষা,ক্যান্সার সহ ষ্ট্রোক হবার প্রবনতা বেশী লক্ষ্য করা যাচ্ছে।যা জেলার স্বস্থ্য সেবা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক কৃষিবিদ ড,সাইখুল আরিফিন বলেন,
তামাক চাষ জমির উর্বতা এবং মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক,আমরা বিভিন্ন উপজেলায় সেমিনার,উঠোন বৈঠক,প্রচার প্রচারনা চালিয়ে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছি,তবে তামাক কোম্পানিগুলোর চটকদারি প্রচার এবং সার,বীজ,কীটনাশক সহ বিনা সুদে কৃষকদের আর্থিক সুবিধা প্রদান করায় আমাদের প্রচেষ্টা কাজে আসছে না।
খবর চিত্র প্রতিবেদক
মিজানুর রহমান মিজান
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
মন্তব্য করুন