
ফরিদপুরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা জনি বিশ্বাসকে আটক করেছে পুলিশ। না পেয়ে সরকারি কর্মকর্তার অফিসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ফরিদপুর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আটক জনি বিশ্বাস (৩২) শহরতলির বিলনালিয়া গ্রামের দিনমজুর কাদের বিশ্বাসের ছেলে। তিনি শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। ২০২৪ সালে ফরিদপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সমন্বয়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন তিনি।
বিআরটিএ ফরিদপুর কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান জানান, দুপুরে হঠাৎ তার অফিস কক্ষে ঢুকে জনি বিশ্বাস নিজেকে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই কর্মকর্তা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছেন এবং এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হবে। পরে বিষয়টি ‘সমাধান’ করতে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।
এতে সন্দেহ হলে তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে অফিসের টেবিলে আঘাত করে কাচ ভেঙে ফেলেন এবং উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করতে থাকেন। পরে সহকর্মীরা এসে তাকে আটক করেন।
ঘটনার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। কোতোয়ালি থানা পুলিশ এসে জনি বিশ্বাসকে হেফাজতে নেয়।
বিআরটিএ ফরিদপুর সার্কেলের সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা জানান, চাঁদা দাবি ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আটকের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে জনি বিশ্বাসকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলতে শোনা যায়, তিনি সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি মাঝে মধ্যে নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা বা সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। এর আগে শহরের টেপাখোলা এলাকায় একটি ইটভাটায় চাঁদা দাবির অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে গণপিটুনির শিকার হয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ হওয়ার ঘটনাও শোনা যাচ্ছে।
খবরচিত্র.কম
মন্তব্য করুন