
রাজধানীর জুরাইনে শারমিন আক্তার শেলী (২৬) হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে শেলীকে হত্যার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে সন্দেহভাজন খুনিসহ কয়েকজনের সঙ্গে চ্যাট হয়েছে। হত্যার পর কীভাবে চ্যাট করা হলো — এই রহস্যের জট খুলতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে কদমতলী থানার জুরাইন কমিশনার মোড়ের ৯৮৪/১ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে শেলীর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শেলীর মা সাহানা বেগম কদমতলী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় শেলীর কথিত স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আসামি করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, বাসার সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ এপ্রিল রাতে মামুন ওই ফ্ল্যাটে যান এবং পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেরিয়ে আসেন। বাইরে থেকে তালা দিয়ে যান। ২৩ এপ্রিল ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হলে অন্য ভাড়াটিয়ারা বাড়িওয়ালাকে জানান। বাড়িওয়ালা শেলীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে এসএমএস করলে উত্তর আসে — ‘তিনি বাইরে আছেন এবং বাসায় ফিরে দুর্গন্ধের কারণ খুঁজে বের করবেন।’
তদন্তে আরও দেখা যায়, ২১ এপ্রিল ছাড়াও আরেক দিন মামুন ফ্ল্যাটে যান। বাড়িওয়ালা দুর্গন্ধের কথা বলায় তিনি বাসায় গিয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে আসেন। লাশ উদ্ধারের সময় ঘরের ভেতরে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, “স্বামী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেওয়া মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
মামুন চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা (মেজর)। তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে। সেই সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। শেলীরও আগে বিয়ে হয়েছিল এবং একটি সন্তান রয়েছে। ২০২৩ সালে ফেসবুকে তাদের পরিচয় হয়। ৮-৯ মাস আগে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে কদমতলীতে বাসা ভাড়া নেন।
তদন্তে জানা যায়, অন্য নারীকে বিয়ে করে পল্লবীতে নতুন সংসার করেছেন মামুন। সেখানে মাসখানেক আগে তার আরেকটি সন্তান হয়েছে। তবু শেলীর সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শেলী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাকে মারধর ও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন শেলীর মা সাহানা বেগম।
খবরচিত্র.কম
মন্তব্য করুন