
বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পার হতে পারছে না, ইরানের অনুমতির অপেক্ষায় আটকে আছে
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার জের ধরে ইরান হরমুজ প্রণালি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে না।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)-এর মালিকানাধীন এই জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বন্দরের কাছে অবস্থান করছে। জাহাজে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবানে পৌঁছানোর কথা ছিল। জাহাজের সব নাবিক বাংলাদেশি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রোববার রাতে তুরস্কে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহের কাছে জাহাজটির নিরাপদ পারাপারের জন্য সহায়তা চেয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কূটনৈতিক চ্যানেলে জোরালো প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অনুরোধ করেন। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, “সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় আমরা আশা করছি দ্রুতই অনুমতি মিলবে।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্চ মাসে বলেছিলেন, বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে। ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূতও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবু দুই দফা চেষ্টার পরও জাহাজটি অনুমতি পায়নি।
কূটনৈতিক সূত্রের ধারণা, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক বিবৃতি তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে।
বাংলাদেশের প্রথম বিবৃতিতে ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানানো হয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পরে দ্বিতীয় বিবৃতিতে খামেনির মৃত্যুকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে শোক প্রকাশ করা হয়। তবে ইরানি রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমী জাহানাবাদী প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট হয়নি।
সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলেন, “বাংলাদেশ সবসময় কোনো দেশে আক্রমণের বিরোধিতা করে। এবার হয়তো অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।”
‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। ফেব্রুয়ারিতে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে যায়। ইরানে হামলার সময় জাহাজের কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। পরে যুদ্ধবিরতির পর ৮ এপ্রিল হরমুজ পার হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে আবার চেষ্টা করেও ইরানি নৌবাহিনীর নির্দেশে ফিরে আসতে হয়েছে।
একই সঙ্গে ক্যামেন আইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি জাহাজ সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে চট্টগ্রামে আসতে পারেনি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই সংকট বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার আশা করছে, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় শিগগিরই সমাধান মিলবে।
খবরচিত্র.কম – আপডেট থাকুন, বাংলাদেশের স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সর্বশেষ খবর জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
(সূত্র: বিবিসি বাংলা, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন)
মন্তব্য করুন