
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশের মানুষের সব মনোযোগ ও আগ্রহ ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। কোথায় কে জিতলেন, কে হারলেন—এসব নিয়েই ছিল জল্পনা-কল্পনা। এই ভিড়ে কোপা দেল রের সেমিফাইনাল প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদ–বার্সেলোনা ম্যাচের কথা খুব কম মানুষেরই মনে ছিল!
কিন্তু এই ভুলে যাওয়ার মাঝেই নীরবে একটা বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে আতলেতিকো। প্রথমার্ধেই বার্সেলোনার জালে চারবার বল জড়িয়েছে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না হলেও ৪–০ গোলের বিশাল হারে এখন বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বার্সা। প্রশ্ন উঠেছে—শেষ কবে প্রথমার্ধে চার গোল খেয়েছিল বার্সেলোনা?
ম্যাচের শুরুতেই আত্মঘাতী গোল (৭ মিনিটে এরিক গার্সিয়া) দিয়ে আতলেতিকোকে এগিয়ে দেয় বার্সা। এরপর ১৪ মিনিটে আতোয়াঁন গ্রিজমান, ৩৩ মিনিটে আদেমোলা লোকমান এবং যোগ করা সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ গোল করে প্রথমার্ধ শেষ করেন ৪–০ গোলে।
এই হারের মাধ্যমে ১৯৫৩ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো অফিশিয়াল ম্যাচে প্রথমার্ধে চার গোলে পিছিয়ে পড়ল বার্সেলোনা। প্রায় ৭৩ বছর আগে লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৪–০ গোলে পিছিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত ৫–০ গোলে হেরেছিল বার্সা। আতলেতিকোর বিপক্ষে বার্সার সর্বশেষ এমন বিপর্যয় হয়েছিল ১৯৪৯–৫০ মৌসুমে—প্রথমার্ধে ৪–০ গোলে পিছিয়ে থেকে ম্যাচ শেষ হয় ৪–১ গোলে।
বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকের জন্য এই হার আরও বেদনাদায়ক। ২১ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে (জার্মান ফুটবলের চতুর্থ স্তরের সময় বাদ দিলে) কখনো চার বা তার বেশি গোলে হারেননি তিনি। গতকাল রাতে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের স্বাদ পেলেন।
এখন ফাইনালে যেতে হলে বার্সেলোনাকে আগামী ৩ মার্চ ফিরতি লেগে ন্যূনতম ৫ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। চার গোল করলে ম্যাচ টাইব্রেকারে যাবে। কোপা দেল রের ইতিহাসে প্রথম লেগে ৪ বা তার বেশি গোলে হেরেও ম্যাচ জেতা সর্বশেষ দল ছিল মিরান্দেস—১৯৭৭ সালে তারা তেরাসার বিপক্ষে প্রথম লেগে ৪–০ গোলে হেরে ফিরতি লেগ ৬–১ গোলে জিতে ফাইনালে উঠেছিল।
এটি বার্সার বিপক্ষে আতলেতিকোর যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বড় জয়। ১৯৪১ সালে কোপা প্রেসিদেন্তেতে ৬–০ গোলে জিতেছিল আতলেতিকো—যা এখনো কাতালান ক্লাবটির বিপক্ষে দলটির সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। এরপর তিনবার ৪–০ গোলে জিতেছে আতলেতিকো—সর্বশেষটি গতকাল রাতে।
ম্যাচে আত্মঘাতী গোল করা এরিক গার্সিয়া ৮৫ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। কোপা দেল রের ১২৩ বছরের ইতিহাসে বার্সার কোনো খেলোয়াড় এমন ঘটনার (আত্মঘাতী গোলের পর লাল কার্ড) সাক্ষী হয়েছেন—এটিই প্রথম।
সব মিলিয়ে গতকাল রাতটা খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যেতে চাইবে বার্সেলোনা।
ম্যাচ শেষে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক বলেন:
“প্রথমার্ধে আমরা দল হিসেবে ভালো খেলতে পারিনি—আসলে দল হিসেবেই খেলিনি। খেলোয়াড়দের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি ছিল এবং আমরা যেভাবে তাদের ওপর প্রেসিং করতে চেয়েছিলাম, পারিনি। প্রথম ৪৫ মিনিটে আমরা বড় একটা শিক্ষা পেয়েছি। কখনো কখনো সঠিক সময়ে এমন শিক্ষা পাওয়াটা ভালো হয়—হয়তো আজই সেই সঠিক সময়।”
**খবর চিত্র** প্রতিবেদক
মন্তব্য করুন